Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

হিমাচল প্রদেশে মানুষ ও চিতাবাঘের মধ্যে একসময় যে সতর্ক সহাবস্থান ছিল, তা আজ এক ভয়াবহ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই পরিস্থিতি এখন ‘পারস্পরিক ক্ষতির’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার মূলে রয়েছে পরিবেশগত পরিবর্তন ও মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

Camera-trap photo of a leopard with city in the background. Photo: Swapnil Kumbhojkar
এই হামলার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।

Leopards preying on dogs. Photos: left – Rahul Jain, right – Devam Shah
এই সংঘাতের ফলে স্থানীয় মানুষদের শারীরিক, আর্থিক এবং মারাত্মক মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

Leopard cubs playing in a temple. Photos: Swapnil Kumbhojkar
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া আটকাতে বনদপ্তর ও গবেষকরা স্থানীয় মানুষদের অংশীদার হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
চিতাবাঘকে কেবল একটি ‘ভয়ঙ্কর প্রাণী’ হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল দিকটি আমাদের চোখ এড়িয়ে যাবে। প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলে (Food Chain) শীর্ষ শিকারি হিসেবে এদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের ক্ষোভের জেরে যদি জঙ্গল থেকে চিতাবাঘ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়, তবে নিরামিষাশী বা তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন বুনো শুয়োর বা বাঁদরের) সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষিকাজের ওপর। বন্যপ্রাণীর দ্বারা ফসল নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা কৃষকদের জন্য আরও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই চিতাবাঘ হত্যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এটি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে।
নগরায়নের কারণে জঙ্গল আজ ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে তৈরি হওয়া হাইওয়ে বা নতুন বসতি বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বা ‘ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর’-গুলোকে খণ্ডিত করেছে। একটি চিতাবাঘের বেঁচে থাকার জন্য বিস্তীর্ণ এলাকার প্রয়োজন হয়। চলাচলের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এই করিডোরগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো পুনরায় সুরক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রাণীরা লোকালয়ে না ঢুকেই এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাতায়াত করতে পারে।

Camera-trap photo of a leopard with Jaipur in the background. Photo: Swapnil Kumbhojkar
গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, মানুষের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং অপর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা। এই ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT)-এর মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া, সংঘাত-প্রবণ এলাকাগুলোতে বন্যপ্রাণীর হামলার জন্য বিশেষ ‘হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ বা স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চালু করলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক বোঝা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
শুধুমাত্র সাধারণ ক্যামেরা ট্র্যাপ নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই সংঘাত কমাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। জিপিএস রেডিও-কলারিং (GPS Radio-collaring) এবং ড্রোন সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে চিতাবাঘের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে নজরদারি করা সম্ভব। যখনই কোনো রেডিও-কলার পরানো চিতাবাঘ লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসবে, তখন স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম সিস্টেম বা এসএমএস-এর (SMS) মাধ্যমে বনদপ্তর ও গ্রামবাসীদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া যেতে পারে।
ভবিষ্যতে এই সংঘাত এড়াতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। পাহাড়ি বা বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রমে ‘বন্যপ্রাণীর আচরণ ও সহাবস্থান’ বিষয়ক ব্যবহারিক ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গ্রামবাসীদের বোঝাতে হবে যে, চিতাবাঘ স্বভাবত মানুষকে শিকার করে না; তারা কেবল আত্মরক্ষার্থে বা চরম খাদ্যাভাবে পড়লেই আক্রমণ করতে বাধ্য হয়।
পরিশেষে বলা যায়, হিমাচল প্রদেশ বা পশ্চিম হিমালয়ের এই পরিস্থিতি ভারতের সমস্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা। সংরক্ষণের অর্থ শুধু নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে প্রাণী বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং মানুষ ও বন্যপ্রাণী যাতে একে অপরের সীমানাকে সম্মান করে পাশাপাশি বাঁচতে পারে—তার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা। উপযুক্ত বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই আতঙ্ককে পুনরায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে রূপ দেওয়া সম্ভব।
original article by: Sanjukta Mondal, Nature.com, added information by: Mayukh Ghose.